Start Reading

নীরবতার সীমান্তে তুমি ও কবিতা

Ratings:
52 pages10 minutes

Summary

কবিতার উপজীব্য কী? কতকিছুই তো! কি নেই তাতে? বলতে গেলে সবই; ব্যক্তি জীবন, সমাজ জীবন, রাষ্টনৈতিক জীবনের কম বেশি সব দিকগুলোই কখনও সশরীরে, কখনও বা প্রচ্ছন্নভাবে হানা দেয় কবির সচেতন মনে, বাঙ্ময় হয়ে উঠে তাঁর কবিতার ভাষা ও শরীরে। সমালোচক বিষয়ানুসারে কবিতাকে নানা শ্রেণীতে শ্রেণীভুক্ত করে। এদের মধ্যে গীতিকবিতা একটি। প্রধানতমও বটে।
তরুণতম এইচ সোলাইমান-এর ছোট্ট এই 'কবিতার বই'য়ের নাতিদীর্ঘ অথচ প্রগাঢ় অনুভূতিদ্যোতক এই কবিতাগুলো গীতিকবিতারই গোত্রভুক্ত। লেখকের ব্যক্তি জীবনের প্রেম-অপ্রেম, প্রেমজাত বিচিত্র সব অনুভূতি বাণীরুপ নিয়ে মূর্তিমতি হয়েছে পদ্যবন্ধে। পূর্বানুরাগ, অনুরাগ, মিলন-বিরহ, প্রেমজাত আশা-নিরাশা, হতাশা, দোলাচল, ব্যর্থতাজাত নৈরাশ্য, হাহাকার সবকিছুই চলে এসেছে। কখনও পুরো কবিতা জুড়ে, কখনও বা কবিতার চরণানুষঙ্গে।
'আমার কবিতাগুলোর আজ
একটি মাত্র উদ্দেশ্য;'
[জীবন বৃত্ত]
কাব্য পাঠে উদ্দেশ্য পরিস্ফুট হয়। লেখক তাঁর কাঙ্ক্ষিত ও অন্বিষ্ট তুমিকে সন্ধান করছেন। এই তুমি আর কেউ নয়, তার প্রেমাস্পদ, যার উদ্দেশ্যেই এই কাব্যসৃজন।
সম্ভবত, অনুপ্রেনণাও এই তুমি'ই।
'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।' [কবিতার কথা, জীবনানন্দ দাশ]
তরুণ এই লেখককে আমরা 'কবি' বলবো কিনা? তাঁর লেখা এই গদ্য ছন্দের পদ্যগুলি সার্থক 'কবিতা' হয়ে উঠেছে কিনা? এমন প্রশ্ন পাঠকের মনে জাগবেই। এক্ষেত্রে লেখকের অপকট স্বীকারোক্তি-
'আমি কবিতা লিখছি সত্যি,
তবে আমি কবি হতে পারিনি।'
[আমি ব্যর্থতারই প্রতীক]
এই বিচারের ভার পাঠকের হাতেই। শুধু কবিতাই নয়, সব লেখার মূল উদ্দেশ্য পাঠক-সমাদর। অতএব, কবির এই দুস্প্রাপ্য তিলকচিহ্ন লেখকের কপালে জুটবে কিনা, তা পাঠকরাই স্থির করবেন।

_লিটু খান
জনকন্ঠ ভাবন
২০, অক্টোবর ২০১৪

Read on the Scribd mobile app

Download the free Scribd mobile app to read anytime, anywhere.